দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দ্রুত তীব্রতর হতে থাকা এল নিনোর কারণে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দাবানল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে এই জলবায়ুগত ঘটনা।
শুক্রবার (১ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএমওর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ক্রমিক জলবায়ুগত ঘটনা তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এমন এক সময় এ সতর্কবার্তা এসেছে, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো শুধু আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রস্তুতি পর্ব। এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে জ্বলতে থাকা অঞ্চলগুলোতে আরও ইন্ধন যোগাচ্ছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
এল নিনোর প্রভাব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিত হয়ে সংকট আরও গভীর করছে উল্লেখ করে গুতেরেস দেশগুলোকে জলবায়ু কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প বন্ধেরও আহ্বান জানান।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায়।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ‘এল নিনোর ওপর নিবিড় নজর রাখা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে আগাম সতর্কবার্তাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বাভাস নিজে থেকে বিপদ প্রতিরোধ করতে পারে না। আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটিই আগামী দিনের প্রভাব নির্ধারণ করবে।’
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত মাত্রা নিয়ে কম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাসে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এমএস/